০৪ এপ্রিল ২০২০ ১২:০০ অপরাহ্ন

০৪ এপ্রিল ২০২০ ১২:০০ অপরাহ্ন

লাইফস্টাইল ডেস্ক

মার্চ ১৮, ২০২০
৬:০৭ অপরাহ্ন

থানকুনি পাতা এবং আমার দাদুর গল্প


লাইফস্টাইল ডেস্ক:করোনাভাইরাস কেবল আমাদের আতঙ্কিত করছে এমন নয়। অনেক স্মৃতি রোমন্থনেরও সুযোগ করে দিচ্ছে। আবার অনিচ্ছা সত্ত্বেও কিছু লেখাপড়া করতে হচ্ছে। কোয়ারেন্টিন কী? আবার হোম কোয়ারেন্টিন কী? এরপর আইসোলেশন কী? এখন পর্যন্ত যা বুঝলাম, এই তিনটি বিষয় অন্তত সবারই জানা থাকা দরকার। ব্রিটেনের ডেইলি টেলিগ্রাফ করোনাভাইরাস হওয়ার যে আলামত বর্ণনা দিয়েছে তা আমার দেশের মানুষ পরখ করলে টেনশনেই মারা পড়বেন। এই বসন্তে প্রায় মানুষেরই এই আলামাত শরীরে নিয়ে চলেন। এমনকি আমিও। তবে টেলিগ্রাফের একটা বিষয় ভালো লেগেছে, আমাদের যে খাদ্যাভ্যাস তা কিন্তু বরাবরই করোনা ঝুঁকির মধ্যেই পড়ে। আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন। সঙ্গনিরোধ হলো কোয়ারেন্টিন শব্দের অর্থ। আমরা সহজেই বুঝতে পারি, কোয়ারেন্টিনে যাওয়া মানে সঙ্গ ছাড়তে হবে তাকে। কোনোভাবেই যেনো তার ভাইরাস সুস্থ মানুষের শরীরে পৌঁছুতে না পারে। সম্পূর্ণ আলাদা থাকা। হোম কোয়ারেন্টিন মানে হলো, ১৪ দিনের জন্য কোয়ারেন্টিন করার কথা বলা হয়েছে। ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার পর থেকে রোগের পূর্ণ প্রকাশ পেতে ১৪ দিন লাগে MERS ভাইরাসের। করোনাভাইরাস এই MERS গোত্রীয়। তাই ১৪ দিনের জন্য হোম কোয়ারেন্টিন করতে বলা হয়েছে। এটা নিজের বাড়িতে থাকলেই হবে তবে অন্য মানুষদের কাছে যাওয়া যাবে না। স্কুল, কলেজ, উপাসনালয়, বাজার কিংবা যে কোনো ধরনের সভা-জমায়েতে যাওয়া যাবে না। কারও সঙ্গে সাক্ষাতও করা যাবে না। করলে ৩ ফুট দূরত্ব রাখতে হবে। বাসনপত্র, টয়লেট সবসময় জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার রাখতে হবে। আইসোলেশন পর্যায় হলো যার শরীরে করোনা ভাইরাস অলরেডি শনাক্ত হয়ে গেছে। তাকে আইসোলেশনে রাখা হবে। চিকিৎসাধীন এমন ব্যক্তিকে পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত সবার কাছ থেকে একেবারে বিচ্ছিন্ন রাখা হবে। আমরা জানি, করোনা ভাইরাস আল্লাহর গজব। বিশ্বখ্যাত সব আলেমরাই বলছেন, ফাফিররু ইলাল্লাহ। আল্লাহর কাছেই ফিরে আসতে হবে। কেউ স্বপ্নে দেখে তাবিজ বিক্রি করলে তো করোনাভাইরাস দূর হবে না। এসব আজগুবি কথা প্রচার করে মানুষের মধ্যকার সচেতনতাকে বিভ্রান্ত করা ছাড়া আর কিছু নেই। স্বাস্থ্য বিজ্ঞানী বলেন, আমাদের দেশের লতাপাতা বড় উপকারী। ‘ডুমুর ডায়াবেটিসের প্রতিষেধক। মালঞ্চশাক শরীরের ক্ষত সারাতে কাজ করে, কচুপাতা চোখের জন্য ভালো আর পিঁপুল সর্দি-কাশি দূর করে।’ অত্যন্ত পুষ্টিসমৃদ্ধ ব্রাহ্মী, কলমি, দস্তাকচু, হেলেঞ্চা, সাঞ্চি, বেতশাক, কলার মোচা, ডুমুর, বউটুনি, শাপলা, ঘ্যাটকল, কাটানটিশাকসহ নানা প্রজাতির অচাষ করা শাক ও লতাপাতা। মূলত থানকুনি আমাশয়ের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে বলে আয়ুর্বেদিক বিশেষজ্ঞগণ মনে করেন। এছাড়াও আরও নয় উপকারের কথা বলেন অভিজ্ঞ চিকিৎসকগণ, ১. গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর হয়, ০২. জ্বরের প্রকোপ কমে ০৩.কাশির কমে ০৪. পেটের রোগের চিকিৎসায় কাজে আসে, ০৫. ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় ০৬. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে ০৭. ক্ষতের চিকিৎসা করে ০৮. টক্সিক উপাদান শরীর থেকে বেরিয়ে যায় ০৯. চুল পড়ার হার কমে ১০. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে। আমার দাদু নিসা বাণু থানকুনি পাতা পছন্দ করতেন। নব্বইয়ের গোড়ার দিকে দাদু স্কুল থেকে ফিরলেই থানকুনি কুঁড়াতে আমাকে সঙ্গে নিয়ে যেতেন। প্রথমে আমি খুব বিরক্ত হতাম। প্রায় প্রতিদিনই আমাকে তিনি নিয়ে যেতেন। বাড়ির পেছনে যেসব এড়িয়ে সাধারণত কেউ যায় না। ওই জায়গাগুলোতে থানকুনি পাতা খুব জন্মাতো। আমাদের হবিগঞ্জের মাধবপুরে এই থানকুনির আঞ্চলিক নাম টোনামুনি পাতা। এটা দাদুর পছন্দ ছিলো। কিন্তু আমার মনে পড়ে না, কীভাবে তিনি এটিকে খেতেন। পাতা কুঁড়ানো পর্যন্তই মনে আছে। আজকের বিশ্ব কাঁপানো প্রতিষেধক হিসেবে এটিকে চালিয়ে দিয়ে মানুষকে অসতর্ক করার যেমন কোনো যুক্তি দেখছি না আবার গবেষণার দ্বার বন্ধ রাখাও উচিত নয়। কোনো না কোনো লতাপাতাতেই রয়েছে এই মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রতিষেধক। আল্লাহ তাআলা সমগ্র জাতিকে করোনার সংক্রমণ থেকে বাঁচিয়ে রাখুন। আমীন