১৬ জুলাই ২০২০ ১০:১৪ পূর্বাহ্ন

১৬ জুলাই ২০২০ ১০:১৪ পূর্বাহ্ন

নন্দিত ডেস্ক

এপ্রিল ০৩, ২০২০
৬:৪৯ অপরাহ্ন


সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারের জালালপুর ‘লকডাউন’


দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা ওমান প্রবাসীর মৃত্যুতে দোয়ারাবাজার উপজেলার মান্নারগাঁও ইউনিয়নের ‘জালালপুর’ গ্রাম লকডাউন করেছে জেলা প্রশাসন। নিহত জয়নাল আবেদীন (৪৯) ওই গ্রামের মনফর আলীর পুত্র। গত ১৭ মার্চ ওমান থেকে দেশে ফিরে প্রশাসনের নির্দেশনায় তিনি হোম কোয়ারেন্টিনে ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জয়নাল আবেদীন বৃহস্পতিবার সকালে হঠাৎ বুক ও পেটে প্রচন্ড ব্যথা অনুভব করেন। এ সময় স্থানীয় পল্লীচিকিৎসক ডেকে এনে তাকে ব্যাথানাশক ইঞ্জেকশন পুশ করানোর আধাঘন্টা পরেই তিনি মারা যান। খবর পেয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা. দেলোয়ার হোসেন স্বাস্থ্য সহকারীসহ নিহতের বাড়িতে ছুটে যান। তিনি জানান, পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন, নিহত জয়নাল আবেদীনের শরীরে জ্বর, সর্দি, কাশি বা শ্বাসকষ্ট ছিল না। স্থানীয় ইউপি সদস্য সাব্বির আহমদ জানান, জয়নাল আবেদীন বাড়ি ফেরার পর থেকে হোম কোয়ারেন্টিনে ছিলেন। তার লিভারের সমস্যা ছাড়া অন্য কোনো লক্ষণও ছিল না। স্থানীয় কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হে্ল্থ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) কামাল উদ্দিন জানান, প্রবাসী জয়নাল আবেদীন বাড়ি ফেরার পর হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা অবস্থায় তিনি আমাদের পর্যবেক্ষণে ছিলেন। তিনি কখনো কোনো সমস্যার কথা জানাননি। নিহতের বড় বোন মরিয়ম বিবি বলেন, বেশ আগে থেকেই জয়নাল আবেদীনের বুক ও পেটে সমস্যা ছিল। সর্দি, জ্বর, কাশিসহ অন্য কোনো উপসর্গ ছিলনা। বৃহস্পতিবার সকালে হঠাৎ প্রচন্ড পেটব্যথা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই সে মারা যায়। সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. শামছুদ্দিন জানিয়েছেন, ‘যেহেতু ওমান ফেরত প্রবাসী হোম কোয়ারেন্টিনে ছিলেন। তাই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন কী-না, তা নিশ্চিত করতে সিলেট থেকে কীট এনে নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বৃহস্পতিবার বিকালেই সিলেটে পাঠানো হয়েছে। প্রশাসনের সহযোগিতা ও সতর্কতায় তার মরদেহ দাফন করা হয়েছে।’ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ জানান, ‘সদ্য ফেরত ওমান প্রবাসী ওই ব্যক্তি হোম কোয়ারেন্টিনে থেকে মারা যান। তাই তার শরীরে করোনা ছিল কী-না সেটা নিশ্চিত হতে সিলেট থেকে কীট এনে নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষা করার জন্য পাঠানো হয়েছে। এছাড়া প্রশাসনের সহযোগিতা ও সতর্কতায় তাকে দাফন-কাফনও করা হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফল না আসা পর্যন্ত মৃত ব্যক্তির গ্রাম ‘জালালপুর’ লকডাউন থাকবে।’