১০ এপ্রিল ২০২১ ০৬:১৬ অপরাহ্ন

১০ এপ্রিল ২০২১ ০৬:১৬ অপরাহ্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্চ ১৮, ২০২১
৮:২৬ পূর্বাহ্ন


বিশ্ব নেতাদের শুভেচ্ছা


বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিশ্ব নেতারা। তারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। গতকাল এ সংক্রান্ত যৌথ উদ্‌যাপন অনুষ্ঠানে দেয়া ভিডিও বার্তায় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং বলেছেন- ৫০ বছর আগে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাকারী বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এমন একজন মানুষ ছিলেন যিনি তার সারাটা জীবন দেশের মানুষের জন্য উৎসর্গ করে গেছেন। আজ তার কীর্তিকে দেশের মানুষ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে। তিনি যে ‘সোনার বাংলা’র স্বপ্ন দেখিছিলেন আজও বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষকে তাদের জাতীয় পুনরুজ্জীবনের জন্য তা উৎসাহ দেখিয়ে যাচ্ছে। জাতীয় পুনর্জাগরণের চীনা স্বপ্নের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার স্বপ্ন দারুণভাবে মিল রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কাঙ্ক্ষিত সোনার বাংলার স্বপ্ন পূরণে চীন বাংলাদেশের পাশে আছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ যে চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভে স্বাক্ষর করেছে। এই সহযোগিতামূলক সমপর্ক দুই দেশের জনগণের জন্য সত্যিকার অর্থেই লাভজনক হবে। চীনা প্রেসিডেন্ট বলেন, বঙ্গবন্ধু প্রণীত ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও প্রতি বৈরিতা নয়’ নীতিটি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু চীনা জনগণের এক পুরনো ও ভালো বন্ধু। ১৯৫২ এবং ১৯৫৭ সালে চীন সফরকালে তিনি মাও সেতুং এবং চৌ এন-লাইসহ সেই প্রজন্মের বহু নেতার সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়েছিলেন। চীনের সঙ্গে আজকের স্বাধীন বাংলাদেশ তথা এ অঞ্চলের মানুষের সম্পর্কের ভিত্তি যে বঙ্গবন্ধুর সেই দুই ঐতিহাসিক সফর সেটি বুঝাতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং একটি চীনা প্রবাদ উল্লেখ করেন। বলেন, কুয়া থেকে জল খাওয়ার সময় ভুলে যেও না এটি কে খুঁড়েছিল। আগের প্রজন্মের চীনা নেতাদের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু তথা বাংলাদেশের সম্পর্কের বিষয়টিও তেমন। নেতারা এ সম্পর্ক বিকাশে কী করেছিলেন তা আমাদের সর্বদা স্মরণে রাখতে হবে। একই সঙ্গে চীন-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের সেই খুঁটি বা লাঠিটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছেও পৌঁছে দিতে হবে। চীনা প্রেসিডেন্ট বলেন, স্বাধীনতার পাঁচ দশকে বাংলাদেশের মানুষ তাদের দৃঢ় বিশ্বাস এবং অঙ্গীকারের প্রতি অবিচল থেকেছে এবং একের পর এক চ্যালেঞ্জের উপর বিজয়ী হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সংস্কার ও উন্নয়নের দিকে মনোনিবেশ করেছে এবং দ্রুতগতিতে সেই লক্ষ্য পূরণে এগিয়ে চলেছে। দেশটির প্রবৃদ্ধি প্রতিবছর ছয় শতাংশেরও বেশি বাড়ছে। বাংলাদেশ তার নিজের মানুষের জীবনকে আরো উন্নত করেছে এবং বিশ্বের দারিদ্র্য হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী হিসেবে একটি সমৃদ্ধ ও অগ্রগতিশীল বাংলাদেশকে নিয়ে চীন আনন্দিত। তিনি বলেন, চীন ও বাংলাদেশ সবসময়ই বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী ছিল, প্রাচীন সিল্ক রোড সহস্রাব্দ জুড়ে বিস্তৃত বন্ধুত্বের সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। যেহেতু ৪৬ বছর আগে চীন ও বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছে, আমাদের উভয় পক্ষ একে অপরের সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমান আচরণ করেছে। দুই দেশ একে অপরকে সমর্থন করছে এবং একসঙ্গে অগ্রগতি করছে। আজ, উভয় দেশই পুনরুজ্জীবন এবং উন্নয়নের এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। প্রেসিডেন্ট বলেন, বাংলাদেশের সরকার ও জনগণ আজ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর উদ্‌যাপন করছে। এ উপলক্ষে চীনের সরকার, জনগণ ও আমার পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট আব্দুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের প্রতি অভিবাদন ও শুভকামনা জানাই। আমি বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের সমপর্ক বৃদ্ধিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে থাকি। ভবিষ্যতেও আমি বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দুই দেশের উন্নয়ন, বেল্ট অ্যান্ড রোড কো-অপারেশন এবং কৌশলগত সমপর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে কাজ করবো। প্রেসিডেন্ট শি বাংলাদেশের অগ্রগতি ও মানুষের শান্তি কামনা করে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম চীন-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব টিকে থাকার প্রার্থনা করে তার বার্তার সমাপ্তি টানেন। জাপানের মডেলে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু: জাপানের প্রধানমন্ত্রী মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর যৌথ আয়োজনের উদ্বোধনীতে দেয়া ভিডিও বার্তায় জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরেছেন। বলেন, ৫০ বছর আগে বিশ্বের অল্প যে ক’টি দেশ প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল, জাপান তাদের মধ্যে অন্যতম। ১৯৭২ সালের ১০ই ফেব্রুয়ারি থেকে স্বাধীন বাংলাদেশের সঙ্গে জাপানের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হলেও বাঙালিদের সঙ্গে জাপানিজদের সম্পর্ক শতাব্দী প্রাচীন। জাপানকে ঐতিহাসিকভাবে বাঙালিরা বন্ধুরাষ্ট্র মনে করে। তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুই এশিয়ার জাপান ও বাংলাদেশ এই দুই দেশের মধ্যে মৈত্রী প্রতিষ্ঠার প্রথম রূপকার। বাংলাদেশ থেকে জাপানে বঙ্গবন্ধুর শীর্ষ সফরের সময় জাপান-বাংলাদেশ আর্থিক সহযোগিতার দিগন্ত উন্মোচিত হয়। তিনি বঙ্গবন্ধুর জাপান ভ্রমণের কথা উল্লেখ করে বলেন, জাপান সফরের সময় শেখ মুজিবুর রহমান স্বভাবগতভাবেই ইচ্ছা প্রকাশ করে কয়েকবার বলেন, তিনি জাপানের মডেলে বাংলাদেশকে গড়ে তুলবেন। তাকে স্বাগত জানিয়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর অফিসে আয়োজিত সংবর্ধনা সভায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মি. তানাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে মন্তব্য করেন, ‘তিনি যেন আমাদের হিরোভূমি ইতো’। ইতো ছিলেন জাপানের প্রধান জাতীয় নেতা। বঙ্গবন্ধুর ভিশন বাস্তবে পরিণত হয়েছে: ট্রুডো বঙ্গবন্ধু জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উৎসবের উদ্বোধনীতে প্রচারিত ভিডিওবার্তায় কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ১৯৮৩ সালের বাংলাদেশ আর আজকের বাংলাদেশের মধ্যে বিস্তর পরিবর্তন দেখেছেন বলে জানিয়েছেন। ১৯৮৩ সালে তার পিতা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পিয়েরে ট্রুডোর সঙ্গে বাংলাদেশ সফরের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, আমি যখন আমার বাবার সঙ্গে বাংলাদেশ সফর করেছিলাম ওই সময় থেকে বাংলাদেশ অনেক পরিবর্তন হয়েছে। গত ৫০ বছরে বাংলাদেশ অভূতপূর্ব উন্নতি সাধন করেছে। এই সময়ের থেকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে, দরিদ্রতা কমেছে, শিক্ষার হার বেড়েছে এবং স্বাস্থ্য সেবার প্রসার ঘটেছে। ফলে দেশের জনগণের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। একজন ব্যক্তির কারণে ইতিহাসে দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন সম্ভব সেটি শেখ মুজিবুর রহমান করে দেখিয়েছেন- জানিয়ে তিনি বলেন, শেখ মুজিবুর রহমানের ভিশন বাস্তবে পরিণত হয়েছে। কারণ তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতেন মানুষকে। ট্রুডো বলেন, আজকে আমরা উৎসব করতে পারছি শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক একটি দেশ গড়ার ভিশনের কারণে। এটি সম্ভব হয়েছে এদেশের মানুষের প্রতি তার ভালোবাসার জন্য। আমার পিতার সঙ্গে শেখ মুজিবুর রহমানের দৃঢ় সম্পর্ক ছিল। ওই সময় থেকে দুই দেশ দৃঢ় সম্পর্ক বজায় রাখছে। তিনি বলেন, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আমূল রূপান্তর হয়েছে এবং এই পথযাত্রায় কানাডা অংশীদার হিসাবে আছে। আমরা বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধিতে অবদান রেখেছি এবং নারী অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন উন্নয়নে সহায়তা করছি। শিশুস্বাস্থ্য ও শিক্ষা, যুব সম্প্রদায়ের জন্য দক্ষতা বৃদ্ধিসহ অন্যান্য কাজে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ কানাডা।