২১ জুন ২০২১ ১২:৩২ অপরাহ্ন

২১ জুন ২০২১ ১২:৩২ অপরাহ্ন

নবীগঞ্জ প্রতিনিধি

মে ৩১, ২০২১
১০:৫৫ অপরাহ্ন


নবীগঞ্জে তাণ্ডব : আসামি দুই সহস্রাধিক, আটক ৭


হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার পাহাড়ি এলাকা গজনাইপুর ইউনিয়নের সাতাইহালসহ ৬টি মৌজার লোকজন কর্তৃক পানিউমদা ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগসহ তাণ্ডবের ঘটনায় গতকাল রবিবার (৩০ মে) রাতে মৃত আব্দুশ শহীদের পুত্র জামাল হোসেন বাদী হয়ে নবীগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের পর আজ সোমবার (৩১ মে) ভোর রাতে নবীগঞ্জ থানার পুলিশ সাতাইহালসহ আশপাশের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে ৭ জনকে আটক করেছে। আটককৃতদের সোমবার দুপুরে হবিগঞ্জ কোর্ট হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

এদিকে, মাথা গোঁজার ঠাই বাড়িঘর হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবযাপন করছেন নারকীয় তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন। ঘটনাটি নিয়ে ওই এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

রবিবার হামলাকারীরা নগদ টাকা, প্রায় ২ হাজার মণ ধান, ৮টি টিউবওয়েল ১০/১৫টি গরু, ১৫/২০টি ছাগল ও অসংখ্য হাঁস-মোরগ লুটপাট করে নিয়ে যায়। এতে প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। তাণ্ডবের ঘটনায় রবিবার রাতে পানিউমদা ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের মৃত আব্দুশ শহীদের পুত্র জামাল হোসেন বাদী হয়ে ৪৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ২ হাজার জনকে আসামি করে নবীগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের পর পর নবীগঞ্জ থানার ওসি মো. ডালিম আহমেদের নেতৃত্বে একদল পুলিশ গজনাইপুর ইউনিয়নের সাতাইহাল গ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে লেবু মিয়া (৩০), লেদু মিয়া (৩৫), নাঈম (১৭), মহিবুর রহমান মানিক (৪৩), জুলফু মিয়া (২৬), রকিব উল্লাহ ((৬০) ও মামুন (২০) নামের ৭ জনকে আটক করে। আটককৃতদের সোমবার দুপুরে হবিগঞ্জ কোর্ট হাজতে প্রেরণ করেছে পুলিশ।

নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ডালিম আহমদ জানান, নোয়াগাঁও গ্রামের মৃত আব্দুশ শহীদের ছেলে জামাল হোসেন বাদী হয়ে ৪৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ২ হাজার জনকে আসামি করে নবীগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার উপজেলার পানিউমদা ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের পার্শ্ববর্তী হাওরে গজনাইপুর ইউনিয়নের সাতাইহাল গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর উদ্দিনের (বীর প্রতীক) মালিকানাধীন ফিশারিতে অবস্থানরত পাহারাদার ও তার স্ত্রীকে মারধর করে নোয়াগাঁও গ্রামের কতিপয় লোকজন। আহত দম্পতি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় নবীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর উদ্দিন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গজনাইপুর ইউনিয়নের সাতাইহাল গ্রামসহ ৬টি মৌজার লোকজন সভা পরবর্তী মাইকিং করে কথিত প্রভাবশালীদের নির্দেশে প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরত্বে আরেকটি ইউনিয়নে অবস্থিত নোয়াগাঁও গ্রামে দেশীয় অস্ত্র সহকারে হামলা করার পরিকল্পনা করেন। ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মহি উদ্দিন ও নবীগঞ্জ থানার ওসি ডালিম আহমদসহ একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়পক্ষের লোকজনকে নিয়ে নোয়াগাঁও গ্রাম থেকে কিছুটা দূরবর্তী স্থানে সভা করেন। সভা চলাকালে সাতাইহাল ৬টি মৌজার প্রায় ২ সহস্রাধিক লোক বিকল্প রাস্তায় নোয়াগাঁও গ্রামে প্রবেশ করে হামলা, পাক হানাদারবাহিনীর ন্যায় ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, ভাঙচুরসহ তাণ্ডবলীলা চালায়। একপর্যায়ে তারা বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করে প্রায় ২ হাজার মণ ধান, ১০/১৫টি গরু, ১৫/২০টি ছাগল, অসংখ্য হাঁস-মোরগ বাড়ি থেকে লুট করে নিয়ে যায়। লুটপাটকারীরা উল্লেখিত বাড়িগুলো থেকে ৮টি টিউবওয়লের পাম্প খুলে নিয়ে যায়। এছাড়া অগ্নিসংযোগের ফলে নোয়াগাঁও গ্রামের মৃত সফর উল্লা'র ছেলে রমজান মিয়া, হেলাল মিয়া, লুৎফুর মিয়া, সাদ্দক মিয়া, কামাল মিয়া, মাদ্দক মিয়া, হিরন মিয়া, মৃত আরজু মিয়ার ছেলে আব্দাল মিয়া, মৃত আবরু মিয়ার ছেলে আফজল মিয়া, আওলাদ মিয়া, তাজুদ মিয়া, আজাদ মিয়া ও সফর উল্লা'র ছেলে মুহিবুর রহমানের ১৩টি পাকা ও আধাপাকা টিনশেডের বাড়িঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এ সময় হামলার শিকার হয়ে বাড়ি-ঘরে থাকা লোকজন পালিয়ে গিয়ে প্রাণ বাঁচান।