২১ জুন ২০২১ ০২:০২ অপরাহ্ন

২১ জুন ২০২১ ০২:০২ অপরাহ্ন

নন্দিত সিলেট

জুন ০৪, ২০২১
৯:৫০ অপরাহ্ন


র‌্যাবের অভিযানে ১০ জন গ্রেপ্তার, ৬ টি সিএনজি উদ্ধার


র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাব-৯ ক্রাইম প্রিভেনশন কোম্পানী-১ (সিপিসি) শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্প এর বিশেষ অভিযানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন অঞ্চল হতে চুরি হওয়া ৬টি সিএনজি চালিত অটোরিকশাসহ মানিক-কামরুলসহ (মাইনকা-কামরুল) গ্রুপের ১০ সহযোগী গ্রেপ্তার হয়েছে।

শুক্রবার (৪ জুন) বেলা সাড়ে ১২ টায় র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-৯ সিপিসি-১ শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্প এর কমান্ডার মেজর সৌরভ মো. অসীম শাতিল প্রেসব্রিফিংয়ে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার ( ৩ জুন) র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-০৯ সিপিসি-১ শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্পের একটি বিশেষ দল মেজর সৌরভ মো. অসীম শাতিল ও সিনিয়র এএসপি একেএম কামরুজ্জামানে নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ৬টি সিএনজিসহ ১০জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।  

মেজর সৌরভ মো. অসীম শাতিল জানান, র‌্যাব-৯ দীর্ঘদিন ধরে সিলেট বিভাগের মোটরসাইকেল, গাড়ী, সিএনজি চুরি-ছিনতাইকারী চক্রের অনুসন্ধানে কাজ করে আসছে।

এরই প্রেক্ষিতে ২১ এপ্রিল পেশাদার সিএনজি চোর মো. আবু তালেব (৪৫) ল্যাংড়া তালেবকে গ্রেপ্তার হয়।

এছাড়াও র‌্যাব-৯ এর অধিনায়কের সুপরিকল্পিত দিক নির্দেশনায় সিপিসি-১ এর স্পেশাল টিম আরো কিছু চক্রের সন্ধান পায় ও অনুসন্ধানে অগ্রগতি আনতে সক্ষম হয়।

২৮ মে হবিগঞ্জের মাধবপুর এলাকা হতে সিএনজি চুরির অভিযাগ পাওয়ার সাথে সাথে স্পেশাল টিম ও সোর্স উক্ত চক্রের সদস্য শমসু মিয়াকে (৪৫) শনাক্ত দ্রুততার সাথে ৩ জুন গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

পরবর্তীতে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন অঞ্চলে অভিযান চালিয়ে চুরি হওয়া ৬টি সিএনজিসহ ১০ জন পেশাদার সিএনজি চোর এবং চোরাই সিএনজি ব্যবসায়ীদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।  

এর মধ্যে বৃহস্পতিবার ( ৩ জুন) শমসু মিয়া (৪৫) এর তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-০৯ সিপিসি-১ (শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্প) এর একটি বিশেষ দল মেজর সৌরভ মো. অসীম শাতিল ও সিনিয়র এএসপি একেএম কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে মো. মহিউদ্দিনকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়।

মো. মহিউদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে সিলেট বিভাগের চুরি যাওয়া সিএনজি চোরাই পথে বিক্রয় করার প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে অপকর্মে লিপ্ত।

গ্রেপ্তারকৃত আসামী মোঃ মহিউদ্দিন (২৬) এর তথ্যের ভিত্তিতে মো. কামরুল মিয়াকে (২৪) গ্রেপ্তার করা হয়।

কামরুলের আশপাশের এলাকাবাসীর নিকট হতে জানা যায় যে, কামরুল মিয়া এছাড়াও বিভিন্ন ধরণের প্রতারণামূলক কাজে জড়িত।

ধৃত আসামী শমসু মিয়া (৪৫) এর তথ্যের ভিত্তিতে এই গ্যাং এর চুরি,ছিনতাই অপারেশন লিডার মো. মানিক মিয়া (৩৭) ও তার অন্যতম সহযোগী মো. মশিউর রহমানকে (৪২) গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত আসামী মোঃ মহিউদ্দিন (২৬)এর তথ্যের ভিত্তিতে দ্বীন ইসলাম হৃদয় (২১), অনুকুল রায়কে (১৯), মো. মঈন উদ্দিন (২৮), মো. শফিকুল ইসলাম (৩৬), মো. সেলিম আহম্মেদ মুন্না (৩০) কে গ্রেপ্তার করা হয়। 

গ্রেপ্তারকৃত হৃদয় যানবাহন সমূহ ছিনতাই, চুরি করার ক্ষেত্রে চাবি ছাড়া এ সকল যানবাহন চালাতে পারদর্শী এবং এই গ্যাং এর অন্যতম প্রধান সদস্য।

জিজ্ঞাসাবাদকালে আসামী অনুকুল জানায় যে, প্রাথমিক পর্যায়ে অভাব অনটনে এ কাজ করলেও পরবর্তীতে মহিউদ্দিন তাকে মাদক মামলায় পুলিশে ধরিয়ে দিবে ভয় দেখিয়ে এ ধরনের কাজে বাধ্য করে। 

গ্রেপ্তারকৃত আসামীদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করার পর জানা যায় যে, আসামী মো. মহিউদ্দিন এ সকল চুরি,ছিনতাই এর মূল পরিকল্পনাকারী।

এক্ষেত্রে আসামী মো. মহিউদ্দিন সকল নতুন সিএনজি (বিশেষ করে যে সকল সিএনজির এখনো নম্বার প্লেট লাগানো হয়নি) টার্গেট হিসাবে বাছাই করে এবং টার্গেট এর গ্যারেজ চিহিৃত করে। টার্গেট এবং গ্যারেজ চিহিৃত করার পর আসামী মহিউদ্দিন চুরির প্রস্তাব মানিককে দেয়।

আাসামী মানিক (মাইনকা) চুরি, ছিনতাই গ্রুপের মূল লিডার। আসামী মো. মহিউদ্দিন এর দেয়া প্রস্তাব অনুযায়ী আসামী মানিক প্রাথমিক ভাবে কিছুদিন টার্গেট এবং গ্যারেজ পর্যবেক্ষণ করে।

অতঃপর চুরির দিন নির্ধারণ করে। চুরি করার ক্ষেত্রে আসামী মানিক তার দলের প্রধান অস্ত্র হিসাবে আসামী হৃদয়কে ব্যবহার করে।

আসামী হৃদয় যে কোন যানবাহন চাবি ছাড়া ইঞ্জিন চালু করতে পারদর্শী। আসামী হৃদয় ইঞ্জিন চালু করে দেয়ার পর সে নিজে এবং আসামী মশিউর এবং দলের অন্যান্য সদস্যরা যানবাহন সমূহ চালিয়ে আসামী মানিকের পুর্ব নির্ধারিত স্থানে নিয়ে আসে।

আসামী মানিক (মাইনকা) এর নেতৃত্বে চুরি, ছিনতাই অপরাধ কার্যক্রম সংঘটিত হওয়ার পর তারা আবার প্রধান সমন্বয়কারী মোঃ মহিউদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করে। 

একই সাথে ঐ স্থানে আসামী মহিউদ্দিন উপস্থিত হয়। তারপর আসামী মো. মহিউদ্দিনই চোরাই গাড়ী বিক্রির অন্যতম সদস্য কামরুলের সাথে একমাত্র যোগাযোগ রক্ষা করে।

আসামী মো. মহিউদ্দিনের মাধ্যমে চোরাই যানবাহন সমূহ আসামী কামরুল গ্রহণ করে এবং উক্ত যানবাহন সমূহ চোরাই পথে বিক্রির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।

চোরাই পথে যানবাহনগুলো বিক্রির পর  বিক্রিত অর্থের কিছু অংশ আসামী মহিউদ্দিনের মাধ্যমেই চুরি ছিনতাই গ্রুপের মূল লিডার মানিক (মাইনকা) এর হাতে আসে।

যা পরবর্তীতে মানিক তার গ্রুপের অন্যন্যা সদস্যদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেয়। সিএনজি চুরি যাওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই এ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

সাধারণত প্রায় পাঁচ লাখ টাকা মূল্যের একটি সিএনজি আসামী কামরুল এক লাখ ত্রিশ হাজার টাকা থেকে এক লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি করে থাকে। এক্ষেত্রে বিক্রয়মূল্যের দুই-তৃতীয়াংশ আসামী মহিউদ্দিন এবং কামরুল নিয়ে থাকে এবং এক-তৃতীয়াংশ বা তার কিছু কম চুরি, ছিনতাই গ্রুপ পেয়ে থাকে।

এই সকল প্রক্রিয়া খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হয়। যার ফলে দ্রুততার সাথে আসামীগণকে গ্রেফতার করা ছাড়া সিএনজি সমূহ ফেরত পাওয়া প্রায় অসম্ভব।