০৫ জুলাই ২০২২ ০৪:৩৩ অপরাহ্ন

০৫ জুলাই ২০২২ ০৪:৩৩ অপরাহ্ন

নন্দিত সিলেট

জুন ১৯, ২০২২
৯:০৬ অপরাহ্ন


হবিগঞ্জের আশ্রয় কেন্দ্রে মানুষের ঢল


টানাবর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ইতিমধ্যে আজমিরীগঞ্জ ও নবীগঞ্জে কয়েক হাজার পরিবার বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছে।

এদিকে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করছে জেলা প্রশাসন। প্রস্তুত রাখা হয়েছে শুকনো খাবার, ওষুধসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী।

নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ মহিউদ্দিন জানান, উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের প্রায় ৫০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার মানুষ। ইতিমধ্যে প্রায় ১ হাজার মানুষ ১২টি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছে। তাদের জন্য শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় ওষুধপত্রের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বন্যা কবলিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (অ.দা.) মিনহাজ আহমেদ শোভন জানান, কুশিয়ারার পানি অব্যাহতভাবে বাড়ছে। নদীর বাঁধ উপচে পানি হাওড়ে প্রবেশ করার ফলে নতুন নতুন গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে। দিঘলবাগ, ইনাতগঞ্জ, বড় ভাকৈর, আউশকান্দি ইউনিয়নের গ্রামগুলো প্লাবিত হচ্ছে।

নবীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুল হক চৌধুরী সেলিম বলেন, যেভাবে পানি বাড়ছে আল্লাহর ওপর ভরসা ছাড়া আমাদের কোনো উপায় নেই। উজানে যদি বৃষ্টি বন্ধ হয় তবে একটু আলোর মুখ দেখতে পারবো। তবে আমরা সবাই মাঠে কাজ করছি।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, নবীগঞ্জে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির জন্য সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তিগত, সংস্থা, সামাজিক উদ্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন অনেকেই। তবে সহায়তা প্রদানের জন্য সবাইকে সমন্বয়ের আহ্বান জানান উপজেলা নির্বাহী অফিসার। ১২টি আশ্রয় কেন্দ্রে প্রায় ১ হাজার মানুষের জন্য ৫ হাজার ৫০০ কেজি চাল, শিশু খাদ্য ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার ও গো খাদ্য ৫০ হাজার টাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে সরকারিভাবে। শুকনো খাবার প্যাকেজ প্রস্তুত করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে নবীগঞ্জের পাশাপাশি আজমিরীগঞ্জ উপজেলায়ও অনেক গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতেও ২ হাজারেরও বেশি মানুষ অবস্থান নিয়েছেন। রোববার সকাল পর্যন্ত নতুন নতুন বেশ কিছু গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বন্যা কবলিত মানুষের আশ্রয়ের জন্য নবীগঞ্জে ১৩টি, লাখাইয়ে ১৫টি এবং আজমিরীগঞ্জে ২১টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। দুর্গত মানুষদের সহায়তায় পর্যাপ্ত শুকনো খাবার, ওষুধ, মোমবাতি, দিয়াশলাই মজুদ রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি মনিটরিং সেল খোলা হয়েছে। সার্বক্ষণিক সব উপজেলায় যোগাযোগ রাখা হচ্ছে, মিটিং করা হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, টানা বর্ষণ, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার কুশিয়ারা, কালনীসহ বিভিন্ন নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। কুশিয়ারার পানি আজমিরীগঞ্জ উপজেলার কৈয়ার ঢালাসহ কয়েকটি পয়েন্ট এবং নবীগঞ্জ উপজেলার কুশিয়ারা ডাইকসহ কয়েকটি পয়েন্ট দিয়ে হাওড়ে পানি প্রবেশ করছে। অর্ধশতাধিক গ্রাম ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে।