লিসবনে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিবের ৯২ তম জন্মবার্ষিকী পালিত

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর সহধর্মিণী বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিবের ৯২ তম জন্মবার্ষিকী পালন করেছে পর্তুগালে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।

এ উপলক্ষে সোমবার (৮ আগস্ট) দূতাবাস প্রাঙ্গণে বিশেষ আলোচনা সভা ও বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরতে দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতিতে রাষ্ট্রদূত তারিক আহসান বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিবের-এর প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন।

সভায় বক্তারা বঙ্গমাতার গৌরবোজ্জ্বল জীবন এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে তাঁর চিরস্মরণীয় ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।

রাষ্ট্রদূত তাঁর বক্তব্যে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিবের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, বঙ্গমাতা ছিলেন জাতির পিতার সব লড়াই-সংগ্রাম-আন্দোলনের নেপথ্যের প্রেরণা দানকারী এবং অফুরন্ত প্রেরণার উৎস। বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর সমগ্র রাজনৈতিক জীবনে সকল গুরত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহযোগিতা করেছেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর্বে জাতির পিতাকে প্রায় ১৩ বছর পাকিস্তানে কারাগারে থাকতে হয়, সে সময় বঙ্গমাতা সুচারূভাবে পরিবারের দেখাশুনার পাশাপাশি জাতির পিতার রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনায় সহযোগিতা করেছেন। তাঁর বলিষ্ঠ ও সময়োপযোগী পরামর্শসমূহ জাতির জীবনে সুফল বয়ে এনেছে, যা জাতীয় ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্রপতির পত্নী হয়েও তিনি সবসময় সাদামাটা জীবনযাপনে অভ্যস্ত ছিলেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের সামাজিক পুনর্গঠন এবং অসংখ্য বীরঙ্গনাদের স্বাভাবিক জীবনে পুনর্বাসনে বঙ্গমাতা অগ্রনী ভূমিকা পালন করেন। বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিব শুধু সকল নারীদের নিরন্তর অনুপ্রেরণার উৎসই নন বরং তিনি সমগ্র বাঙ্গালী জাতির গর্ব।

আলোচনা সভাশেষে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিব এর উপর নির্মিত প্রামান্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পরে, বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিবসহ জাতির পিতা, তাঁর পরিবারের অন্যান্য শহিদ সদস্য ও শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে এবং দেশের অব্যাহত উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।