বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
English
সর্বশেষ
post_top_ad
প্রবাস

ভাষার মাসের আগে ‘ভাষার আলো’ জ্বলে উঠল টাওয়ার হ্যামলেটসে

ভাষার মাসের আগে ‘ভাষার আলো’ জ্বলে উঠল টাওয়ার হ্যামলেটসে ভাষার মাসের আগে ‘ভাষার আলো’ জ্বলে উঠল টাওয়ার হ্যামলেটসে

বাঙালির ভাষার মাস ফেব্রুয়ারির প্রাক্কালে ব্রিটেনে বাংলা ভাষাসহ বহুভাষিক শিক্ষার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করল টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল। কাউন্সিলের উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হয়েছে ইয়াং কমিউনিটি ল্যাঙ্গুয়েজেস সার্ভিস (ওয়াইসিএল)। যার আওতায় বর্তমানে ২২টি ক্লাসে প্রায় ৩০০ শিশু বিভিন্ন ভাষায় শিক্ষা গ্রহণ করছে।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত টাওয়ার হ্যামলেটস টাউন হলের গ্রোসারস উইংয়ে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন টাওয়ার হ্যামলেটসের এক্সিকিউটিভ মেয়র লুৎফুর রহমান।

উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি মেয়র ও এডুকেশন, ইয়ুথ অ্যান্ড লাইফলং লার্নিংয়ের কেবিনেট মেম্বার কাউন্সিলর মাইয়ুম তালুকদার, কাউন্সিল কর্মকর্তারা, শিক্ষক-অভিভাবক এবং বিপুলসংখ্যক শিশু-কিশোর।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ওয়াইসিএল সার্ভিসের পরিচালকের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ড. বেকি উইনস্ট্যানলি ‘ঐতিহ্যবাহী ভাষার গুরুত্ব’ শীর্ষক বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত পাঁচ মিনিটের একটি প্রামাণ্যচিত্রে ওয়াইসিএল সার্ভিসের লক্ষ্য, কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়।

অভিভাবক তাহমিনা খানম তার সন্তানদের বাংলা শেখার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ‘ছোটবেলায় বাংলাদেশে গিয়ে তিনি বাংলা শিখেছিলেন, কিন্তু টাওয়ার হ্যামলেটসে সন্তানদের সেই সুযোগ দিতে পারছিলেন না। ওয়াইসিএল চালু হওয়ার পর তার সন্তানরা এখন ঘরে ঘরে বাংলা শব্দ ব্যবহার করছে, যা তাকে নতুন আশাবাদ জুগিয়েছে।’

কাউন্সিলের ডিরেক্টর গুলাম হুসেইন বলেন, ‘ভাষা ও শিক্ষা শিশুদের আত্মবিশ্বাস ও পরিচয়বোধ গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।’

উদ্বোধনী ঘোষণা দিতে গিয়ে এক্সিকিউটিভ মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, ‘টাওয়ার হ্যামলেটস একটি বহুভাষিক ও বহুসাংস্কৃতিক বলয়।

যেসব শিশু একাধিক ভাষায় দক্ষ, তারা শিক্ষাগতভাবে এগিয়ে থাকে এবং ভবিষ্যতে আরো আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে। এ কারণেই আমরা প্রায় এক মিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগ করেছি, যাতে শিশুরা ইংরেজির পাশাপাশি নিজেদের কমিউনিটির ভাষাও শিখতে পারে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ভাষার মাসের প্রাক্কালে এই উদ্যোগ শিশুদের শিকড়, ইতিহাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে সংযুক্ত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

ডেপুটি মেয়র মাইয়ুম তালুকদার বলেন, ‘বাজেট সংকোচনের কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কমিউনিটি ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাস পুনরায় চালু হওয়ায় শিশু ও তরুণদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। কমিউনিটি ভাষা মানুষকে একত্র করে এবং সাংস্কৃতিক বন্ধনকে আরো দৃঢ় করে।’

পরে প্রদর্শিত হয় বহুভাষিক দক্ষতার উপকারিতা নিয়ে আরো একটি প্রামাণ্যচিত্র। শিশু-কিশোরদের পরিবেশনায় টাউন হল প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। আরবি ও বাংলা ছড়া-গান, বাংলা কবিতা, সোমালি সংগীত এবং চায়নিজ লায়ন ডান্সে ফুটে ওঠে বহুভাষা ও বহুসংস্কৃতির এক অনন্য চিত্র।

চায়নিজ ভাষার শিক্ষক জিয়াংকান ইয়াং বলেন, ‘শিশুরা যখন শেখা ভাষায় শুভেচ্ছা জানায়, সেটাই এই উদ্যোগের সবচেয়ে বড় সাফল্য।’ ছয় বছরের শিক্ষার্থী মাইমুনা জানায়, সে এখন ‘অ, আ’ পড়তে পারে, যা তার কাছে দারুণ আনন্দের।

উল্লেখ্য, ওয়াইসিএল সার্ভিসের আওতায় বর্তমানে বরোর আটটি কেন্দ্রে বাংলা, আরবি, ক্যান্টনিজ, ম্যান্ডারিন ও সোমালি—এই পাঁচটি ভাষায় সপ্তাহে মোট ২২টি ক্লাস পরিচালিত হচ্ছে। স্কুল সময়ের বাইরে ও সপ্তাহান্তে পরিচালিত এসব ক্লাস শিশুদের ভাষা শেখার পাশাপাশি তাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করছে।

কাউন্সিল জানিয়েছে, ভবিষ্যতে আরো স্কুল ও কমিউনিটি সেন্টারে এই কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে। ২০২৬ সালের মে মাস থেকে বাংলা ও অন্যান্য কমিউনিটি ভাষায় GCSE ও A-Level পাঠদান শুরুর প্রস্তুতিও চলছে, যাতে শিক্ষার্থীরা ২০২৭ সালের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে।

ভাষার মাসের প্রাক্কালে এই উদ্যোগ ব্রিটেনে বাংলা ভাষার মর্যাদা ও গুরুত্বকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে, এমন মন্তব্যে প্রশংসায় ভাসছেন এক্সিকিউটিভ মেয়র লুৎফুর রহমান।

post_bottom_ad
Reporter
নন্দিত সিলেট ডেস্ক

প্রবাস

প্রকাশ: ১৩ মার্চ, ২০২৬, ৪:১০ অপরাহ্ন
post_sidebar_top_ad
post_sidebar_bottom_ad