২৭ মে ২০২০ ০৯:২০ অপরাহ্ন

২৭ মে ২০২০ ০৯:২০ অপরাহ্ন

নন্দিত ডেস্ক

মার্চ ৩০, ২০২০
৭:০৮ অপরাহ্ন


তিন ফুটে ‘বন্দি’ সিলেটের মানুষ!


নন্দিত সিলেট:করোনাভাইরাস ঠেকাতে সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিলেটে কাজ করছে প্রশাসনের বিভিন্ন টীম। বাদ দিচ্ছেনা বেসরকারি সংস্থাও। নিত্যপ্রয়োজনীয় দোকান ছাড়া বর্তমানে রয়েছে সকল কিছু বন্ধ। অতি প্রয়োজনীয় এসব দোকানে মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষে বানানো হচ্ছে গোল বৃত্ত। প্রতিটি দোকানের সামনে তিন ফুট দূরত্বে বানানো হচ্ছে একেকটি গোলাকৃতির বৃত্ত। লাল, সাদা রং দিয়ে আঁকা বৃত্তে যেন বন্দি এক সিলেট। সেনাবাহিনী মাঠে নামার পর থেকে করোনাভাইরাস নিয়ে মানুষের মাঝে সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে দিনরাত। সিলেটের প্রতিটি জায়গায় তারা গিয়ে বুঝাচ্ছে করোনার ঝুকি নিয়ে। পাশাপাশি ঘর থেকে অতি প্রয়োজনে বের হলে তিন ফুট দূরত্বে অবস্থান নিশ্চিত করতে তারা চালিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন ধরণের প্রচারণা মুলক কাজ। একই সাথে মুদি দোকান কিংবা ঔষধের দোকানের সামনে যাতে মানুষ ভীড় না করতে পারে সেজন্য তারা বিভিন্ন রং দিয়ে গোল বৃত্ত তৈরী করে দিচ্ছে। সেনাবাহিনীর পাশাপাশিই আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর অন্যান্য সংস্থাও কাজ করছে এ নিয়ে। বসে নেই বেসরকারি সংস্থাও। ব্রাক ইতিমধ্যে সিলেট শহর ও কয়েকটি উপজেলায় একজন আরেকজনের কাছ থেকে তিন ফুট দূরত্ব নিশ্চিত করতে গোল বৃত্ত তৈরী করেও দিয়েছে। গত সোমবার সিলেট সদর উপজেলার টুকেরবাজারে বেশ কয়েকটি মুদি দোকান ও ঔষধের দোকানের সামনে রং দিয়ে গোল বৃত্ত তৈরী করা হয়েছে। এসময় সেনাবাহিনীর সদস্য ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন টুকেরবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহীদ আহমদ। সাধারণত দোকানে একসাথে অনেকে ভীড় করে থাকেন। এতে করোনার সংক্রমণ বাড়তে পারে। এতে তিন ফুট দূরত্ব রেখে রং দিয়ে আঁকা হচ্ছে এসব বৃত্ত। আজ মঙ্গলবার সিলেট শহর ও সোমবার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় বেসরকারি সংস্থা ব্রাক অসংখ্য বৃত্ত এঁকে দিয়েছে। নগরীর চৌহাট্টাসহ বিভিন্ন এলাকায় দোকানগুলোর সামনে ও যাত্রীছাউনিতে সামাজিক দূরত্বের বৃত্ত একে দিয়েছে এনজিও সংস্থা ব্র্যাক। বিভিন্ন দোকানে গিয়ে এ সংস্থার স্বেচ্ছাসেবী প্রতিনিধিরা কাস্টমারদের নির্দিষ্ট দূরত্বে থেকে জিনিসপত্র ক্রয়ের জন্য বৃত্ত একে দেন। পাশাপাশি চৌহাট্টাস্থ যাত্রী ছাউনিতে সামাজিদ দূরত্বের বৃত্ত একে তারা। এসময় উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাকের এরিয়া ম্যানেজার ইয়াসিন মিয়া, ব্রাঞ্চ ম্যানেজার সাইফুল আলম, নুর উদ্দিন, পি.ও গবিন্দ, চুমকি, মুক্তা, সাগতা, প্রতিমা, ইমদাদ, সাইফুল, প্রিয়াংকা ও কাকন প্রমুখ। সোমবার দিনব্যাপী উপজেলা সদর (থানাবাজার), তেলিখাল বাজারসহ বিভিন্ন বাজারের ওষুধের দোকান, নিত্যপণ্য ও পার্সেল মিষ্টির প্রায় ৪৫০টি দোকানের সামনে এমন লাল রংয়ের এই বৃত্তগুলো এঁকে দেন ব্র্যাকের 'প্রগতি' কর্মসূচির ক্রেডিট অফিসাররা । ব্র্যাকের প্রগতি কর্মসূচির ক্রেডিট অফিসার আশিকুর রহমান বলেন, 'আমরা যেভাবে ঘরে থেকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখছি, ঠিক একইভাবে বিশেষ প্রয়োজনে যারা ঘর থেকে বের হবেন তারা যেন দোকানে এসে প্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী কেনার সময় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে পারেন এই জন্যই দোকানের সামনে এই সুরক্ষা বৃত্ত এঁকে দেওয়া হয়েছে। এক কথায় দোকানে পণ্য কেনার সময় কাছাকাছি থেকে যেন কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত না হয় সেজন্য এ ব্যবস্থা করা হয়েছে।' তাদের এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।