০৯ মার্চ ২০২১ ০৪:১৫ পূর্বাহ্ন

০৯ মার্চ ২০২১ ০৪:১৫ পূর্বাহ্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ফেব্রুয়ারী ১৯, ২০২১
৯:১৯ পূর্বাহ্ন


স্বাধীন ভারতে প্রথম কোনো নারীর ফাঁসি


প্রেমিককে বিয়ে করতে বাধা দেওয়ায় এক রাতেই পরিবারের ৭ সদস্যকে খুন করে ১৩ বছর আগে ভারতজুড়ে হইচই ফেলে দেওয়া উত্তরপ্রদেশের শবনম আলি ফাঁসির প্রহর গুণছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো লিখেছে, দেশ স্বাধীনের পর এই প্রথম, ভারতে ফাঁসিতে ঝুঁলিয়ে কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হচ্ছে। সাত খুনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত শবনমের ফাঁসির প্রস্তুতি শুরু হয়েছে মথুরার জেলে। তবে ফাঁসি কবে হবে দিনক্ষণ ঠিক হয়নি। রামপুর জেলে বন্দি ৩৮ বছর বয়সী শবনম ২৫ বছর বয়সে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিলেন। প্রতিবেশী সেলিমের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল শবনমের। সেলিমকে বিয়ের জেদ ধরে বসেছিলেন তিনি। কিন্তু ষষ্ঠ শ্রেণি পাস সেলিমের সঙ্গে স্নাতকোত্তর মেয়ের বিয়ে দিতে না চাওয়ায় শবনম তার পরিবারের সদস্যদের খুন করেন। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওইদিন রাতে মা, বাবা, দুই ভাই, বৌদি, দশ মাসের ভাতিজা ছাড়াও এক আত্মীয়কে ঘুমের ওষুধ মেশানো দুধ খাইয়ে অজ্ঞানের পর একে একে তাদের সবার গলা কেটেছিলেন শবনম। ২০১০ সালে শবনম ও সেলিমকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয় দায়রা আদালত। সাজা মওকুফের জন্য তারপর থেকে গত ১১ বছরে এলাহাবাদ হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট ও রাষ্ট্রপতির দারস্থও হয়েছেন শবনম। নিম্ন আদালতের রায় পুনর্বিবেচনার জন্য সুপ্রিম কোর্টে আবেদনও করেছিলেন। গত বছরের জানুয়ারিতে সেই আবেদন খারিজ করে দেয় শীর্ষ আদালত। এতে করে নিম্ন আদালতে দেওয়া তার মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল থাকে। তবে বিচারবিভাগীয় কমিটির কাছে আবেদনটি ফের একবার পুনর্বিবেচনা করে দেখা ও কিউরেটিভ পিটিশন দায়ের করার উপায় এখনও শবনমের হাতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, সব আইনি দরজা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত শবনমের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যাবে না। তবে ফাঁসি কার্যকর করার দিনক্ষণ ও সময় ঠিক করতে আমরোহা দায়রা আদালতে ইতোমধ্যেই আবেদন জমা পড়েছে। প্রায় ১৫০ বছর আগে নির্মিত উত্তরপ্রদেশের মথুরা কারাগার ছাড়া ভারতের আর কোনো কারাগারে নারীদের ফাঁসি কার্যকর করার ব্যবস্থা নেই। ১৯৪৭ সালের পর কারও ফাঁসি না হওয়ায় তা এখন পরিত্যক্ত প্রায়। মথুরা কারাগারের সিনিয়র সুপারিন্টেন্ডেন্ট শৈলেন্দ্র মৈত্র বলেন, ‘ফাঁসিকাষ্ঠে কিছু সমস্যা ছিল। সেগুলো ঠিক করা হচ্ছে। বিহারের বক্সার জেল থেকে ফাঁসির দড়ি চেয়ে পাঠানো হয়েছে। পবন জল্লাদ সবকিছু দেখে গেছেন।’